উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নেতাকর্মীদের নির্দেশ
সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন।
রিজভী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচি যাতে কোনো মহলের ষড়যন্ত্রে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি দাবি করেন, সরকারের সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে বিভিন্ন গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী।
তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রা কর্মসূচির সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
তার ভাষ্য, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার অবহেলার কারণে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তিনি কার্যক্রমের মানোন্নয়ন ও সঠিক তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রিজভী বলেন, জনগণের কল্যাণে নেওয়া যেকোনো কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে কার্যকর মনিটরিং, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা বিতর্ক ও প্রতিযোগিতার মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সক্রিয় রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের কার্যক্রম, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
রিজভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
