বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়।
এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জিয়াউল আহসানসহ তৎকালীন র্যাব ও পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের পেছনে তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল।
তদন্তে তৎকালীন র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তাঁর ভাষ্য, গুমের পর সালাহউদ্দিন আহমদকে ওই সেলে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং র্যাব ও পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের পর কীভাবে ভারতে পাঠানো বা পাচার করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত কর্মকর্তারা এরই মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন। শিগগির তাঁর আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়া হবে।
এ ছাড়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতেও সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে আটকে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শেষ করে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে ভারতের শিলংয়ে পাওয়া যায়। তাঁকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিল বিএনপি।
