বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ।সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সংসদ অধিবেশনে এ কমিটি গঠন করা হয়।
সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সংসদ সূত্রে জানা গেছে, কমিটিটি মূলত ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। তবে বিরোধী দলকে পাঁচজন সদস্যের নাম দিতে অনুরোধ জানানো হলেও তারা কোনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি। ফলে বর্তমানে ১২ সদস্য নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— বিএনপির সংসদীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা ও মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ।নবগঠিত এই বিশেষ কমিটি দেশের সংবিধানের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ কে?
সালাহউদ্দিন আহমেদ একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।
তিনি ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির মুখপাত্র এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
২০১৫ সালে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরে ভারতের মেঘালয়ে তাকে পাওয়া যায় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি খালাস পান। ২০২৪ সালে দেশে ফিরে আসার পর ২০২৬ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সম্প্রতি সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটির সভাপতির দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছে।
