টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ, দেশজুড়ে প্রস্তুতির নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) নতুন একটি টিকা যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) প্রদান শুরু হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে সফল টাইফয়েড টিকাদান অভিযানের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি ও সমন্বয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হওয়া সব শিশু নির্ধারিত ইপিআই কেন্দ্রের মাধ্যমে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিনের এক ডোজ পাবে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, একই দিনে শিশুদের এমআর-২ (হাম-রুবেলা) টিকার সঙ্গে এই টিকাও দেওয়া যাবে।
এতে অভিভাবকদের জন্য আলাদা করে অতিরিক্ত টিকাদান সেশনে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
কর্মসূচি সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুদের শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকার চাহিদা নিরূপণ, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিতকরণ এবং নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিশুদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের জন্য ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং টিকা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাপভিত্তিক তথ্য হালনাগাদ বাধ্যতামূলক করা হবে।
এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর করতে উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভা আয়োজনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে পাঁচ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে। টিকা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে।
ভ্যাকসিন অপচয় কমাতে মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে।
টাইফয়েড টিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, ইমাম এবং কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিভাবকদের টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইফয়েড বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েড টিকা অন্তর্ভুক্ত হলে রোগের প্রকোপ কমবে এবং শিশু মৃত্যুঝুঁকি হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্তি দেশের শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে টাইফয়েড প্রতিরোধে নতুন মাইলফলক তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
