আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের যোগ্যতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী আইন সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রার্থিতার যোগ্যতা নিয়ে নতুন কিছু বিধান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ কয়েকটি শ্রেণির ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারাতে পারেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ১২তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সংশোধনী প্রস্তাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনাতেও কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আখতার আহমেদ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা ভোটার তালিকায় যুক্ত হন। এর আগে পর্যন্ত তাদের তথ্য ডরম্যান্ট বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।
তিনি আরও জানান, তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে কমিশন। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক পর্যায়—কোন স্তর থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হবে, সে বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন আধুনিকায়ন এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতেই এসব সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে।
