বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা
দেশের স্বর্ণবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন মূল্যতালিকা একই দিন সকাল ১০টা থেকে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দামেও পরিবর্তন এসেছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত খাঁটি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বর্ণের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাজুসের মতে, বাজারের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে স্বর্ণের দাম পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে স্বর্ণালঙ্কারের নকশা ও কারুকাজের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত মজুরি যোগ হতে পারে।
এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলঙ্কার বিনিময় (এক্সচেঞ্জ) ও পুনঃক্রয়ের (পারচেজ) ক্ষেত্রেও পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।
স্বর্ণের দাম কমার ফলে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির পর এই মূল্যহ্রাস সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্য কমলেও স্বর্ণ এখনও উচ্চমূল্যের পর্যায়ে রয়েছে। তাই বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করবে।
দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পেলেও বাজার পরিস্থিতি এখনও সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও স্বর্ণের দামে ওঠানামা হতে পারে।
