রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার মামলায় এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১৬ এর বিচারক নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ ও ৩১ মে রাজধানীর মহাখালীর বিভিন্ন স্থান থেকে অটোরিকশাচালক ময়না মিয়ার মরদেহের ছয়টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বছরের ১ জুন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে পুলিশ ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। মরদেহ উদ্ধারের এক দিনের মধ্যেই তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি পারিবারিক কলহ এবং স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের কথা স্বীকার করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও মামলার উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত ফাতেমা বেগমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
