ইউরোপজুড়ে তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রিসের সালামিস দ্বীপে আগুনে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনের আরাগন অঞ্চলে আগুন নেভানোর কাজে এক সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে জার্মান সীমান্তের কাছে বেলজিয়াম তাদের ইতিহাসের আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় দাবানল মোকাবিলা করছে। পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সেও বিভিন্ন এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে। ঐতিহাসিকভাবে উষ্ণ গ্রীষ্মের কারণে মহাদেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে এবং পরিবেশ অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। এতে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে তীব্র গরমে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গ্রিসের দমকল বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী এথেন্সের কাছে সালামিস দ্বীপে দুটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে জনপ্রিয় কয়েকটি সৈকত থেকে কয়েক শ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক কোস্টগার্ড মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, কোস্টগার্ডের টহল নৌকা ও অন্যান্য নৌযানের মাধ্যমে ৫৭০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আরাগন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় রোববার এক স্প্যানিশ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির নেতা।
আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ আরাগনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অগ্নিনির্বাপণ অভিযান পরিচালনা করছে। আগুনের বিস্তার এক হাজার বছরের পুরোনো একটি মঠের জন্যও হুমকি তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স থেকে অতিরিক্ত জনবল পাঠানোর কথা রয়েছে।
পর্তুগালেও কয়েকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কয়েক শ দমকলকর্মী কাজ করছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্পেন সীমান্তের কাছে দিন নামের গ্রামের আশপাশে আগুনের মধ্যে একটি গাড়ি পুড়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।
দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা এএনইপিসি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী বোটিকাস ও শাভেজসহ আরও কয়েকটি এলাকায় দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
জার্মানির সীমান্তের কাছে দুর্গম একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকায় বেলজিয়ামের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটি ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে পানি ছিটানো বিমান, সামরিক হেলিকপ্টার ও কৃষকদের ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে।
আগুনের ঝুঁকি বাড়ায় সীমান্তবর্তী একটি শহরের বাসিন্দাদের আংশিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় অবস্থান করায় আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থলপথে ট্রাক্টরের মাধ্যমে পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। শুক্রবার আগুনটি ৮০ হেক্টর এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও রোববার তা প্রায় ৩ হাজার হেক্টরে ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দাবানলের সূত্রপাতের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ।
খরা ও তীব্র গরমের মধ্যে পাইনবন ও জলপাইবাগানে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লাঁদ বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া আগুনটি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তিন দিন ধরে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা জিল ক্লাভরুল জানান, পরিস্থিতি ‘অনুকূলভাবে’ এগোচ্ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় আগুনের পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় ওই এলাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার বিকেলে তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার পূর্বাভাস ছিল। একই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতাও বেড়েছে।
স্থানীয় প্রিফেক্ট জানিয়েছেন, দাবানলের কারণে সরিয়ে নেওয়া ৬৫০ জনের মধ্যে প্রথম দলটি রোববার সন্ধ্যায় নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবে।
সূত্র: বাসস
