কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আধুনিক শিল্প ও আবাসিক নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৭ হাজার ৩১৫ একর জমির ওপর ‘ওয়ান সিটি টু টাউনস’ বা ‘এক নগর দুই শহর’ নামে একটি অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান তৈরি করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠবে এবং প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সিডিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড), কোরিয়ান ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে ব্যাপক শিল্পায়ন হবে। ২০৫০ সাল নাগাদ আনোয়ারার জনসংখ্যা ৭ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মহাপরিকল্পনায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন পরিকল্পনায় সিইআইজেডের জন্য ৭৭৪ দশমিক ৪ একর এবং অন্যান্য শিল্প খাতের জন্য আরও ৫৫০ একর জমি বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব শিল্পাঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলে আশা করছে সিডিএ।
পরিকল্পিত নগরায়ণের চাপ সামলাতে আনোয়ারায় ৪৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার নতুন ও উন্নত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারা-পটিয়া সড়কটি ১৬০ ফুট প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া এক হাজার যানবাহন ধারণক্ষমতার একটি ট্রাক টার্মিনাল ও একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি উচ্চবিদ্যালয় এবং নয়টি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিডিএ কর্মকর্তাদের মতে, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কারণে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে মাস্টারপ্ল্যানে ২ হাজার ৩৮৮ একর কৃষিজমি সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা ও শিল্পকারখানার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ঠেকিয়ে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে গড়ে তোলা হবে। শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি আবাসিক ভবন, তারকা মানের হোটেল, রেস্তোরাঁ, রেস্টহাউস ও রিসোর্ট নির্মাণের সুযোগও থাকবে পরিকল্পনায়।
আনোয়ারায় চায়নিজ ইকোনমিক জোনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেখানে চীনের একক বিনিয়োগে কয়েক শ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব কারখানায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিদ্যমান কোরিয়ান ইপিজেডেও বিনিয়োগ বাড়ছে। কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে আনোয়ারার সঙ্গে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের যোগাযোগ আরও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলকে লজিস্টিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে মেগাসিটিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই সিডিএ এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে।
