হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিন পাকিস্তানকে ১৭১ রানে অলআউট করার পথে ইংল্যান্ডের দুই পেসার ওলি রবিনসন ও জশ টাং নিয়েছেন ৫টি করে উইকেট। একই ইনিংসে দুই ইংলিশ বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তির পর ম্যাচের বলটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। গ্রাউন্ড স্টাফদের সহায়তায় বলটি কেটে দুই টুকরা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পর মাঠ ছাড়ছিলেন রবিনসন ও টাং। তাঁদের হাতে ছিল ম্যাচের সেই বল—দুজনেরই পাঁচ উইকেটের স্মারক। সাধারণত পাঁচ উইকেট পাওয়ার পর বোলাররা বল উঁচিয়ে উদ্যাপন করেন। কিন্তু এবার একই বলের দাবিদার দুজন।
সমাধানও বের করলেন দুজন মিলে। মাঠ ছাড়ার সময় রবিনসন টাংকে প্রস্তাব দেন, বলটি কেটে দুই ভাগ করে নেওয়া যায় কি না। টাংও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। পরে বলটি হেডিংলির গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে পাঠানো হয়। তাঁরা সেটি কেটে দুই সমান অংশে ভাগ করে দেন। ফলে বলটির একটি অংশ এখন রবিনসনের, অন্যটি টাংয়ের।
রবিনসন পরে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাংকে বলটি দুই ভাগ করার কথা বলেছিলেন তিনি। তাঁর কাছে বিষয়টি বিশেষ মনে হয়েছে, কারণ ক্রিকেটে অর্ধেক বলের স্মারক খুব একটা দেখা যায় না। একই ইনিংসে দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ঘটে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টাংও এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ বলে মনে করছেন। বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালকে তিনি জানান, প্রস্তাবটি রবিনসনই দিয়েছিলেন এবং গ্রাউন্ড স্টাফরা খুব সুন্দরভাবে বলটি ভাগ করেছেন। জীবনে প্রথমবার এমন কিছু দেখেছেন বলে জানান টাং। অর্ধেক বলের অংশটি তিনি বিশেষ জায়গায় সংরক্ষণ করবেন বলেও জানান।
হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনে পাকিস্তানের ১০ উইকেটই ভাগ করে নেন ইংল্যান্ডের দুই পেসার। রবিনসন নেন ৫ উইকেট, টাংও পান ৫ উইকেট।
টেস্ট ক্রিকেটে একই ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি ১৬তম। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০৬ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষেই। সেবার ৫টি করে উইকেট নিয়েছিলেন সাইমন হার্মিসন ও মন্টি পানেসার। তবে সেবার দুজনের একজন ছিলেন স্পিনার; এবার দুই পেসার মিলে গড়লেন কীর্তিটি।
পাকিস্তানের টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে শুরুটা করেছিলেন রবিনসন। এরপর পাকিস্তানের নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের দ্রুত বিদায় করে ইনিংস গুটিয়ে দেন টাং। তাঁর ডাকনাম ‘দ্য মপ’—সেদিন যেন নামের সার্থকতাই দেখিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানকে ১৭১ রানে অলআউট করার পর ইংল্যান্ড দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ১১২ রান নিয়ে।
দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনটির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে রবিনসনের। গত সপ্তাহেই তাঁর দ্বিতীয় কন্যা ইভার জন্ম হয়েছে।
রবিনসন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত দুইটায় ইভার জন্ম হয়। এরপর লিডসের হোটেলে এসে ঘুমের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছিলেন তিনি। সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানকে বাড়িতে রেখে মাঠে এসে এমন পারফরম্যান্স করতে পারাটা তাঁর কাছে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি।
তিনি বলেন, ছোট শিশুকে ঘরে রেখে মাঠে এমন কিছু করতে পারার অনুভূতি মিষ্টি। পরিবার মাঠে না থাকলেও পুরো সময় তাঁর মন পড়ে ছিল বাড়িতে থাকা নবজাতক কন্যার কাছেই।
