২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করেছিলেন, ম্যাচ ও ড্রেসিংরুমে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’। এক মাস পর সেই বিতর্কের জবাব দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে পুরো টুর্নামেন্টে দলের লড়াই, খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা এবং ফাইনালে হারের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসির কান্নার দৃশ্য তুলে ধরা হয়।
ভিডিওর বার্তায় বলা হয়, এক মাস আগে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’। তবে সেটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং আর্জেন্টিনা আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিল এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল।
ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের মনোভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি কোনো কোনো মহল থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, আর্জেন্টিনা নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিল।
এএফএ অবশ্য এসব অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণার মধ্যেও দলটি নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে ফাইনালে উঠেছিল।
এএফএর বক্তব্যে বলা হয়, ‘কিছু একটা ঘটেছিল’—এ কথার সত্যতা থাকলে সেটি ছিল এমন একটি দলের লড়াই, যারা জয় পাওয়ার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। দলটি শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে এবং কখনো হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত সবকিছু জিতেও এবার তাদের পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও ফাইনালের পর ছড়ানো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি এসব প্রচারণাকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাপিয়ার অভিযোগ, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। খেলোয়াড়দের এমনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়, যেন তাঁরা ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এক মাস পেরিয়ে গেলেও এসব অভিযোগের জন্য কেউ কেন ক্ষমা চাননি। তাঁর ভাষ্য, যারা ভুল তথ্য ছড়িয়েছিল, তাদের কেউই প্রকাশ্যে এসে নিজেদের ভুল স্বীকার করেনি।
তাপিয়ার মতে, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করছিলেন, তখন বাইরে থাকা কিছু মানুষ উল্টো ঘৃণা, বিভাজন ও অপপ্রচার ছড়িয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করা জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে।
এএফএ সভাপতি আরও বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, যারা এমন অভিযোগ তুলেছে, তাদেরই এখন নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।
তাপিয়া স্পষ্ট করে বলেন, যারা দলের জন্য নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছেন, তাঁদের কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ব্যক্তিদেরই জবাবদিহি করতে হবে।
এএফএর প্রকাশিত ভিডিওতে ফাইনাল শেষে রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় মেসির কান্নার দৃশ্যও রাখা হয়েছে। ভিডিওর শেষ বার্তায় বলা হয়, অধিনায়কের সেই কান্না আবারও মনে করিয়ে দেয়—ফুটবলে জয়-পরাজয় দুটিই আসতে পারে, কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
ফলে ফাইনালের পর ছড়িয়ে পড়া ‘কিছু একটা ঘটেছিল’ কথাটিকে আর্জেন্টিনা এবার নতুন অর্থে সামনে এনেছে। এএফএর বক্তব্য অনুযায়ী, সত্যিই কিছু একটা ঘটেছিল—সেটি ছিল একটি দলের শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া, আর সেই লড়াইয়ের পরও পরাজয় মেনে নেওয়া।
