ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি। মরক্কোর ব্যবসায়ী সোহাইলা তাহিরিকে বিয়ে করার পর তাঁদের ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় এই গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়।
কার্লোস জানিয়েছেন, ইসলাম ধর্মের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে তিনি নিজে ইসলাম গ্রহণ করেননি। সৌদি আরবের সংবাদপত্র ওকাজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্লোসের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাঁকে একজন কাজির উপস্থিতিতে ইসলামি রীতিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পাশাপাশি ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের খবরও সামনে আসে।
এসবের ভিত্তিতে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়, রবার্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামি রীতিতে বিয়ে করেছেন।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন। কার্লোস সম্প্রতি মরক্কোর ব্যবসায়ী সোহাইলা তাহিরিকে বিয়ে করেছেন। স্ত্রীর ধর্মীয় পরিচয় ও তাঁর মুসলিম বন্ধুদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসলামি রীতিও রাখা হয়েছিল।
কার্লোস ওকাজ-কে বলেন, ইসলাম ধর্মের প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখাও তাঁর কাছে সুন্দর অভিজ্ঞতা। তবে তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবরটি সত্য নয়।
কার্লোস জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাই তাঁদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান রেখে বিয়েতে ক্যাথলিক রীতিও রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর মরক্কোর স্ত্রী এবং তাঁর মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পটভূমির কথা বিবেচনায় ইসলামি রীতিও অনুসরণ করা হয়।
ফলে অনুষ্ঠানের কিছু ছবি দেখে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। কার্লোসের বক্তব্য অনুযায়ী, স্ত্রীর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তাঁর নিজের ধর্ম পরিবর্তনের প্রমাণ নয়।
রবার্তো কার্লোস জানিয়েছেন, ফুটবল–সম্পর্কিত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। সোহাইলা একজন সফল ব্যবসায়ী। তাঁদের সম্পর্কের বয়স প্রায় দুই বছর। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।
মরক্কোর ব্যবসায়ীকে বিয়ের পর বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ কার্লোসকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর ধর্ম পরিবর্তনের গুঞ্জন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
৫৩ বছর বয়সী রবার্তো কার্লোসের এটি তৃতীয় বিয়ে। তাঁর প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।
এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনকে বিয়ে করেন কার্লোস। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসার করার পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এই সংসারে তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
সব মিলিয়ে সাত নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান রয়েছে। তাঁর মেয়ে জিওভানা ২০১৭ সালের অক্টোবরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর নানাও হয়েছেন সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসলামি রীতি পালন এবং মুসলিম ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণেই মূলত কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নিজের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি।
একই সঙ্গে স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টিও তুলে ধরেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি।
