আজারবাইজানের ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে তরুণ ক্লাব সাবাহ এফকে। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ইসরায়েলের হাপোয়েল বিয়ের শেভাকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে তারা। এই জয়ে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্ব বা লিগ ফেজে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্লাবটি।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ম্যাচটির প্রথম লেগে ২-১ গোলে হেরেছিল সাবাহ। ফলে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগে তাদের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ।
ঐতিহাসিক ম্যাচটির জন্য নিজেদের ১৩ হাজার ধারণক্ষমতার মাসাজিরের ব্যাংক রিপাবলিকা অ্যারেনার পরিবর্তে বাকুর ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার তৌফিক বাহরামোভ রিপাবলিকান স্টেডিয়াম বেছে নেয় সাবাহ। গ্যালারিভর্তি দর্শকের সমর্থন ম্যাচে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগায় স্বাগতিকদের।
তবে শুরুটা ছিল সাবাহর জন্য হতাশার। ম্যাচের ১০ মিনিটেই স্লাটানোভিচের গোলে এগিয়ে যায় হাপোয়েল বিয়ের শেভা। প্রথমার্ধের শেষদিকে নোয়াচুকুর গোলে সমতায় ফেরে সাবাহ।
বিরতির পর ৬১ মিনিটে মিজরাহির গোলে আবারও এগিয়ে যায় ইসরায়েলি ক্লাবটি। দুই লেগ মিলিয়ে তখনও এগিয়ে ছিল হাপোয়েল বিয়ের শেভা।
এরপর ঘুরে দাঁড়ায় সাবাহ। ৭৪ মিনিটে রাখমোনালিয়েভ গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে মুতাল্লিমোভের গোল দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান সমান করে দেয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে দুই লাল কার্ড দেখে আরও বিপদে পড়ে হাপোয়েল বিয়ের শেভা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় সাবাহ। এমবিনা ও মিকেলসের পরপর দুই গোলে শেষ পর্যন্ত ৫-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে আজারবাইজানের ক্লাবটি।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সাবাহ এফকের উত্থানও বেশ উল্লেখযোগ্য। আজারবাইজানের দ্বিতীয় বিভাগ থেকে যাত্রা শুরু করা ক্লাবটি দ্রুতই দেশটির শীর্ষ ফুটবলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঘরোয়া লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি টানা দুইবার আজারবাইজান কাপও জিতেছে তারা।
দেশটির ফুটবলে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ক্লাব কারাবাগের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে সাবাহ এখন নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উয়েফা কনফারেন্স লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারই প্রথম ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ ফেজে জায়গা করে নিল সাবাহ। তাদের এই অর্জন আজারবাইজানের ফুটবলে নিঃসন্দেহে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
