১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সরকারি দল, সহযোগী সংগঠন বা প্রশাসনের কোনো অংশ বাধা সৃষ্টি করলে সরকার আরও জনআস্থা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে সরকার জনরোষের মুখেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক।
আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি হবে। সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন তারা করছে না।
সরকারের প্রতি তিনি কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে জনগণের আস্থা বজায় থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে রাজধানীর শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।
যানজট বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে লংমার্চের বহর লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে কর্মসূচির সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
পথে মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং পথসভার সময় সংক্ষিপ্ত রাখতে ১১ দলের সব নেতা প্রতিটি সভায় বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, স্থানীয় শাখাগুলো ও নেতা-কর্মীরা পথসভার আয়োজন করবেন। গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না; যাঁদের বক্তব্য দেওয়ার কথা, শুধু তাঁরাই সেখানে অংশ নেবেন।
লংমার্চের পথে নতুন গাড়ি বহরে যুক্ত হতে পারে। এসব গাড়ি বহরের শেষ দিকে থাকবে।
অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে এবং বাসগুলোতে স্টিকার থাকবে। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, দলের সাংস্কৃতিক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং মেডিক্যাল টিমের গাড়ি চলাচলের বিষয়েও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, সব সমস্যার সমাধানের জন্য ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়। তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের যে সময়সীমা ছিল, সেটি ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এবং ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা ছিল। সরকার তা করেনি। এসব বাস্তবায়নে কত সময় লাগবে, তা সংসদে জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার কোনো আশঙ্কা তারা করছেন না। ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলেও জানান তিনি।
তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলার ঘটনা ঘটলে এর দায় সরকারি দলকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন পাটওয়ারী। এমন ঘটনা ঘটলে এর জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
