শরৎকাল শুরু হতেই দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ভোরের আকাশে দেখা দিয়েছে কুয়াশা। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা কুয়াশায় ঢাকা ছিল। মাঠঘাট, নদীর পাড় ও ফাঁকা সড়কে পাতলা কুয়াশার সঙ্গে ফসলের পাতায় জমেছিল শিশির। এতে শীতের আগমনের বার্তা পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা দেখা যায়। সকাল ছয়টার দিকে মাহানপাড়া এলাকায় খোলা মাঠ ও আমনখেতে কুয়াশার চাদর দেখা গেছে। ধানের পাতায়ও জমেছিল ভোরের শিশির।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, তেঁতুলিয়ায় মঙ্গলবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার বিকেলে সেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশাও দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শরৎকালের শুরুতে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তা—দুটিই দেখা যায়। এ সময় আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘ থাকে। আবার কখনো হঠাৎ আকাশ থেকে মেঘ সরে যায়। এমন আবহাওয়ায় কুয়াশা দেখা দিতে পারে।
সকালে কাজে যাওয়ার সময় কুয়াশা দেখে শীতের আগমন টের পাচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিক মো. মাসুম। ৩০ বছর বয়সী এই হোটেল ও রেস্তোরাঁকর্মী বলেন, কয়েক দিন ধরে রাতে বাড়ি ফেরার সময়ও এ ধরনের কুয়াশা দেখেছেন। তবে মঙ্গলবার সকালের কুয়াশা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, শীত চলে এসেছে।
পঞ্চগড় শহরে ইজিবাইক নিয়ে আসা চালক মো. সোলেমান আলীও কয়েক দিন ধরে শেষ রাতে শীতের অনুভূতি পাওয়ার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, ভোর থেকে কুয়াশা পড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়। দিনের বেলায় এখনো গরম অনুভূত হচ্ছে।
হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে শীত মৌসুমে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় পঞ্চগড়ে সাধারণত তাপমাত্রা কম থাকে। ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাস তখন এই জনপদের প্রকৃতিতে আলাদা আবহ তৈরি করে। তবে এখনো শীতের তীব্রতা না এলেও ভোরের কুয়াশায় এর আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।
