সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কটকা। নদী, খাল ও ঘন ম্যানগ্রোভের এই নির্জন এলাকায় প্রকৃতির নানা রূপ চোখে পড়ে। কখনো দেখা মেলে হরিণের পাল, কখনো কাদামাটিতে বাঘের পায়ের ছাপ। পাশাপাশি বুনো শূকর, শামুক-ঝিনুক ও নানা প্রজাতির মাছরাঙার উপস্থিতিও জানান দেয় এখানকার জীববৈচিত্র্যের বৈচিত্র্যময়তা।
কটকায় যাওয়ার পথে নদীর পাড়ের ঘন জঙ্গলের কাছে দেখা যায় হরিণের পাল। আগন্তুকের উপস্থিতিতে তারা কিছুক্ষণ কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মানুষ একটু এগিয়ে গেলে আবার নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়।
কটকায় সকালে চোখে পড়ে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ফরেস্ট স্টেশনের কার্যালয়। আর কটকায় নামার পর পথের পাশ দিয়ে নির্ভয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায় একটি বুনো শূকরকে।
অগভীর খালের পানিতে ছড়িয়ে থাকা শামুক-ঝিনুকও তৈরি করেছে প্রকৃতির নিজস্ব এক নকশা। জঙ্গলের নীরবতার মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছরাঙার উপস্থিতিও চোখে পড়ে।
সুন্দরবন শুধু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নয়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কটকার জঙ্গলে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো সেই লড়াইয়েরই সাক্ষী। এমনকি মৃত গাছগুলোও সুন্দরবনের দীর্ঘদিনের সেই প্রতিরোধের চিহ্ন হয়ে রয়েছে।
