শীত আসার আগেই সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিথি বা পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয়েছে। দূরবর্তী শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে আসা এসব পাখির উপস্থিতিতে চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বেড়েছে। পাখি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও আসছেন।
এ মৌসুমে তাড়াশের চলনবিল ও বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি ও শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যাচ্ছে। সাধারণত বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর অতিথি পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকলেও এবার কিছুটা আগেই তাদের দেখা মিলছে। সকাল থেকেই খাবারের সন্ধানে বিল ও আশপাশের মাঠে এসব পাখি জড়ো হচ্ছে।
তবে পাখির আগমনের সঙ্গে শিকারিদের তৎপরতাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অসাধু চক্র জাল ও খাঁচা ব্যবহার করে পাখি শিকার করছে বলে জানা গেছে। অবাধে পাখি শিকারের কারণে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীনজীবনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেন, পরিযায়ী পাখি হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে। এসব পাখি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও তারা সহায়তা করে। পাখি শিকার বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার দাবি জানান তিনি।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত বলেন, অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব পাখি ফসলের ক্ষতিকর পোকা খাওয়ায় কীটনাশকের ব্যবহার কমে এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমে। পাশাপাশি পাখির বিষ্ঠা জমিতে প্রাকৃতিক সারের কাজ করে।
পরিবেশবিদেরা অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে শিকার বন্ধের পাশাপাশি বিল ও চরাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
