ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, নরসিংদী, বরিশাল, যশোর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা রয়েছেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী আঞ্জু বেগম। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৫ বছর পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের জোসনা বেগমের মেয়ে।
মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান আঞ্জু বেগম। ২০১৭ সালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তাকে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ঈশ্বর সংকল্প’-এর আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকার বনানী রোটারি ক্লাবের সদস্য মো. শামসুল হুদার প্রচেষ্টায় তাকে দেশে ফেরত আনা হয়।
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে পশ্চিমবঙ্গের ধ্রুবআশ্রম, চিনি, সংকল্প, কিশলয়া, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রম, এস এম এম হোম, সুকন্যা হোম, শহীদ বন্দনা বালিকা স্মৃতি আবাস ও সুবায়ন হোমের হেফাজতে ছিলেন তারা।
নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু পাচার রোধবিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত উদ্যোগে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। এ সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি, স্থানীয় এনজিও এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ট্রাভেল পারমিটে দেশে আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
