কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অপহৃত আট মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শিশুটিকে অপহরণের পর ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না পেয়ে দুই দফায় বিক্রি করার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন। এর আগে বুধবার রাতে উখিয়ার বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুতুপালং ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের বি-২ ব্লকের বাসিন্দা তৈয়বা বেগম তাঁর সাত বছর বয়সী ভাগ্নি রেহেনা ও আট মাস বয়সী ছেলে কাদেরকে নিয়ে কুতুপালং বাজারে যান।
বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে গেলে তৈয়বার সাবেক স্বামী মো. রশিদ আলম তাঁর কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর রশিদ আলম তৈয়বার মুঠোফোনে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর রশিদ আলমকে ক্যাম্প-২ ওয়েস্টে তৈয়বার শেডে ডেকে আনা হয়। সেখানে তিনি জানান, তাঁর বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী তসলিমা আক্তারের কাছে শিশুটিকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
পরে তসলিমা ও রুজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার মায়মুনা আক্তার ও তাঁর স্বামী নুরুল আমিনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এরপর বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক ও অপারেশন কর্মকর্তা সুমন ভক্তের নেতৃত্বে পুলিশ পশ্চিম মরিচ্যা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মায়মুনা আক্তার ও নুরুল আমিনের হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রশিদ আলম (৩০), তাঁর বর্তমান স্ত্রী রুজিনা আক্তার (২৮), তসলিমা আক্তার (২৫), মায়মুনা আক্তার (২৯) ও তাঁর স্বামী নুরুল আমিন (৩৮)।
১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
