বরিশালে আইনজীবীর সহকারী নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) হত্যা মামলায় তার স্ত্রী নাছিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নুরুজ্জামান ও নাছিমার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঘটনার রাতে ঝগড়ার পর নুরুজ্জামান ঘুমিয়ে পড়লে রান্নাঘর থেকে শিল এনে তার মাথায় আঘাত করেন নাছিমা। পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, নুরুজ্জামান ও নাছিমার বিয়ে হয় ১৯৯৪ সালে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। মেয়ে ইশরাত জাহান পপি (২৮) ঢাকার ভাটারা এলাকায় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করেন। ছেলে ইমন হোসেন (২৬) মালয়েশিয়ায় থাকেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুজ্জামানের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
মামলার এজাহার ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে বরিশাল জেলা জজ আদালতের আইনজীবীর সহকারী নুরুজ্জামান বাসায় ফেরেন। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে নুরুজ্জামান নাছিমাকে মারধর করে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর নাছিমা রান্নাঘর থেকে শিল এনে তার মাথার ডান পাশের ওপরের অংশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাছিমা জানিয়েছেন, পরে বালিশ দিয়ে নুরুজ্জামানের মুখ চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
পুলিশ আরও জানায়, নুরুজ্জামানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নাছিমা তার ও স্বামীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কিছু দলিলপত্র এবং বাসার চাবি একটি ব্যাগে নেন। এরপর বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
পরে তিনি তার বোনের মেয়ে খাদিজা বেগমকে ফোন করে এয়ারপোর্ট থানার বাঘিয়া এলাকার আবহাওয়া অফিসের সামনে আসতে বলেন। সেখানে খাদিজার কাছে ব্যাগটি রেখে সকালে আত্মসমর্পণের কথা জানান। এরপর আত্মগোপনে চলে যান নাছিমা।
নুরুজ্জামান হত্যার ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকা থেকে নাছিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
