T TIME NEWS (6)
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড, শুরুতেই আত্মবিশ্বাসী কিউই ওপেনাররা

ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড, শুরুতেই আত্মবিশ্বাসী কিউই ওপেনাররা

 

 

ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের ট্রেন্ট ব্রিজে শুরু হওয়া ম্যাচে কিউই ওপেনার টম ল্যাথাম ও ডেভন কনওয়ে সতর্ক কিন্তু আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে দলকে শক্ত ভিত্তি এনে দেন। দিনের প্রথম ঘণ্টায় ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ কোনো উইকেটের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে সফরকারীদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে।

সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম টস জয়ের পর ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। ট্রেন্ট ব্রিজের উইকেট শুরুতে ব্যাটিং সহায়ক হলেও ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এটি স্পিনারদের সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে কিউইরা।

 

নতুন বলে ইংল্যান্ড আক্রমণের নেতৃত্ব দেন গাস অ্যাটকিনসন ও জফরা আর্চার। শুরুতে কিছুটা সুইং ও বাউন্স পাওয়া গেলেও নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন।

টম ল্যাথাম কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ শট খেললেও ভাগ্য তার পক্ষে ছিল। অন্যদিকে ডেভন কনওয়ে কভার ড্রাইভ ও স্কয়ার অঞ্চলে একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন।

প্রথম ১০ ওভারের আগেই নিউজিল্যান্ড কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান সংগ্রহ করে, যা সফরকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

এই টেস্টে ইংল্যান্ডের জন্য বড় খবর ছিল অধিনায়ক বেন স্টোকসের প্রত্যাবর্তন। সাম্প্রতিক বিরতির পর দলে ফিরে তিনি আত্মবিশ্বাসী অবস্থান প্রকাশ করেন। স্টোকস জানান, নতুন উদ্যমে মাঠে ফিরেছেন এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে চান।

তবে ইংল্যান্ডের একাদশে পেসার অলি রবিনসনের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় ব্যবস্থাপনা এটিকে ‘পরিস্থিতিভিত্তিক নির্বাচন’ বলে ব্যাখ্যা করলেও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

ম্যাচ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ড শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তার খবর আসে। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পেসার ম্যাট হেনরি কাফ ইনজুরির কারণে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। এছাড়া অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপসও সাইড স্ট্রেইনের কারণে খেলতে পারেননি।

তাদের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন মিচেল স্যান্টনার, ব্লেয়ার টিকনার ও জ্যাক ফাউলকস। যদিও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে না পাওয়া নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

সিরিজের ফল নির্ধারণে এই টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ইংল্যান্ড নিজেদের মাঠে আধিপত্য ধরে রাখতে চায়, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ট্রেন্ট ব্রিজের উইকেটে প্রথম দুই দিন ব্যাটসম্যানদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি থাকতে পারে। ফলে নিউজিল্যান্ড যদি বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়, তাহলে ম্যাচে তাদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

 

তৃতীয় টেস্টের শুরুটা নিউজিল্যান্ডের জন্য আশাব্যঞ্জক হয়েছে। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করতে ল্যাথাম ও কনওয়ের উদ্বোধনী জুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দ্রুত উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুঁজছে। সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী এই লড়াইয়ে আগামী সেশনগুলোই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *