ঢাকার শেরেবাংলা নগরে দাঁড়িয়ে থাকা জাতীয় সংসদ ভবন কেবল দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়, স্থাপত্যিক সৌন্দর্য এবং গণতান্ত্রিক চেতনার এক অনন্য প্রতীক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থপতি ও গবেষকদের কাছে ভবনটি আধুনিক স্থাপত্যকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। অথচ একসময় এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পরিকল্পিত একটি আইনসভা ভবন। সেই প্রকল্পের নকশার দায়িত্ব কেন মার্কিন স্থপতি লুই আই. কানকে দেওয়া হয়েছিল এবং কী কারণে তাঁর নকশা আজও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত—সেই গল্প ইতিহাস, রাজনীতি ও স্থাপত্যদর্শনের এক অসাধারণ অধ্যায়।
জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি কেন লুই আই. কান?
১৯৬০-এর দশকের শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকায় ঢাকায় একটি আধুনিক আইনসভা কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিকল্পনাকারীরা এমন একটি স্থাপনা চেয়েছিলেন, যা কেবল সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নয়, বরং অঞ্চলের রাজনৈতিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে। সেই লক্ষ্য থেকেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতিদের মধ্যে অনুসন্ধান শুরু হয়।
সে সময় লুই আই. কান ছিলেন বিশ্ব স্থাপত্য অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত নাম। তাঁর নকশার বৈশিষ্ট্য ছিল সরল জ্যামিতিক বিন্যাসের মাধ্যমে গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করা। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি ভবন শুধু ইট, পাথর ও কংক্রিটের সমষ্টি নয়; বরং তা একটি সমাজের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এই চিন্তাধারাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।
ঢাকার সংসদ ভবনের নকশা প্রণয়নের সময় কান প্রথমেই স্থানীয় জলবায়ু, আলো-বাতাসের প্রবাহ এবং মানুষের ব্যবহারিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্থাপনা নির্মাণ করা, যা একই সঙ্গে কার্যকর, নান্দনিক এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। ফলস্বরূপ জন্ম নেয় এমন এক নকশা, যা ছয় দশক পরও আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।
