Image Credit: africanews
হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি শিক্ষণ হাসপাতাল স্থানান্তর ও পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে দাঙ্গা পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়।
বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত স্টেট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান। হাসপাতালটি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
২০২৪ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর থেকে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি চিকিৎসাশিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী বেঞ্জামিন মার্ক আন্তেলোম বলেন, হাসপাতাল স্থানান্তরের দাবিতে তারা তৃতীয়বারের মতো আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসাশিক্ষার জন্য হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলে থাকা অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও হাসপাতালটির ক্ষেত্রে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী রাশেল লুইস বলেন, তাদের রাস্তায় নেমে হাসপাতাল স্থানান্তরের দাবি জানাতে হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তার ভাষায়, “আমাদের এখন হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা। অথচ একটি হাসপাতাল চালুর দাবি জানাতে গিয়ে আমাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবারের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে এক শিক্ষার্থী হাতে আহত হন। এর আগে একই দাবিতে আয়োজিত আরেকটি কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের একটি গাড়ির দিকে পাথর নিক্ষেপ করলে গাড়িটির কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরস্ত্র দাবি করে স্লোগান দেন।
স্টেট ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, যা ‘জেনারেল হাসপাতাল’ নামেও পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে সেবা দিয়ে আসছিল। তবে হাসপাতালটির আশপাশের এলাকা বর্তমানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বড়দিনের আগের রাতে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে দুই সাংবাদিক নিহত এবং সাতজন আহত হন। ওই ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারান।
পরবর্তীতে রাজধানীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী ‘ভিভ আনসানম’ জোটের প্রভাবশালী গ্যাং নেতা জনসন আন্দ্রে, যিনি ‘ইজো’ নামে পরিচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, হাসপাতাল পুনরায় চালুর বিষয়ে গ্যাং জোটকে অবহিত করা হয়নি।
ঘটনার কয়েকদিন পর দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এরপরও হাসপাতালটির কার্যক্রম আর পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি।
চলমান নিরাপত্তা সংকট, সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলদারিত্ব এবং ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাদের মতে, চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
