২০২৫-২৬ অর্থবছরে (FY26) বাংলাদেশের রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে। যদিও জুন মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবুও পুরো অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার, ফলে লক্ষ্য থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে দেশের রপ্তানি খাত।
তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। জুন মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪.২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২৫.৯১ শতাংশ বেশি।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, টানা আট মাস রপ্তানি আয় নিম্নমুখী থাকার পর এপ্রিল মাসে পুনরুদ্ধার শুরু হয়। ওই মাসে রপ্তানি আয় বেড়ে ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি ছিল।তবে সেই ধারা মে মাসে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। মে মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৪.৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ৭.০৭ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প (RMG)।২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮.৭০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১.৬৪ শতাংশ কম।বিশ্ববাজারে চাহিদার ওঠানামা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের চ্যালেঞ্জের কারণে পোশাক খাত প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জুন মাসের প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিলেও বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে বড় ব্যবধান দেশের রপ্তানি সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া, কৃষিপণ্য, আইটি সেবা এবং ওষুধ শিল্পে বহুমুখীকরণ বাড়ানো গেলে আগামী অর্থবছরে রপ্তানি আয় পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
