দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্নের তাগিদ
ঢাকা: দীর্ঘদিন ধরে অলাভজনক কিংবা বন্ধ অবস্থায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বন্ধ ও অলাভজনক শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর অগ্রগতি, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এসব শিল্পকারখানায় বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো কারখানাগুলোতে নতুন শিল্প ইউনিট স্থাপন কিংবা উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলো বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কোন প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে টেকসই এবং জাতীয় শিল্পনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আনতে হবে। এজন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও বিলম্ব এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার পাশাপাশি সরকারের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
এছাড়া বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, সঠিক বিনিয়োগ নির্বাচন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দক্ষতার ওপর।
