২০২৬ সালের পরীক্ষায় বিতরণ করা হয় আগের বছরের প্রশ্ন; উত্তরপত্র বিশেষ মূল্যায়নের আশ্বাস শিক্ষা বোর্ডের
জামালপুরের একটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরের পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে অনিচ্ছাকৃতভাবে ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়।
শনিবার (৪ জুলাই) জেলার সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের একটি পরীক্ষাকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা শুরু হয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা চলাকালে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও শেষের দিকে পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু ও সিলেবাসে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন।
পরে যাচাই করে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া প্রশ্নপত্রগুলো চলতি শিক্ষাবর্ষের পরিবর্তে আগের বছরের সিলেবাস অনুযায়ী মুদ্রিত ছিল। বিষয়টি দ্রুত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের বাইরের অংশে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্যাকেট খুলে নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন বিতরণ করেন।
তবে প্যাকেটের ভেতরে থাকা প্রশ্নপত্রগুলো ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক। পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র খোলার সুযোগ না থাকায় বিষয়টি আগে থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, প্রশাসনিক ভুলের কারণে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একজন পরীক্ষার্থী জানান, কর্তৃপক্ষ সমাধানের আশ্বাস দিলেও ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা শঙ্কিত। বিশেষ করে উচ্চ গ্রেড অর্জনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি।
ঘটনার পরপরই কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, ওই কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও পাঠাতে হবে।
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব উত্তরপত্র পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রশ্নপত্রের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নমনীয় পদ্ধতিতে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায় নিরূপণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় এ ধরনের ভুল শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় সামান্য ত্রুটিও হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রশ্নপত্র মুদ্রণ, প্যাকেটজাতকরণ, পরিবহন ও বিতরণ—প্রতিটি ধাপে আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
জামালপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনাটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও শিক্ষা বোর্ড পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে দায় নির্ধারণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
