একমাত্র গোলেই আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াই নিশ্চিত
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। ঘানার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখে ১-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জোন আরিয়াস, যা শেষ পর্যন্ত দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
শনিবার অনুষ্ঠিত নকআউট রাউন্ডের এই ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। ঘানা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক চাপ সামাল দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় কলম্বিয়া। বাম প্রান্ত থেকে লুইস সুয়ারেজের ক্রস বক্সে পৌঁছালে লুইস দিয়াজের সূক্ষ্ম স্পর্শে বল চলে যায় জোন আরিয়াসের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ভুল শটে বল জালে পাঠান তিনি।
গোলের পরও আক্রমণাত্মক মনোভাব বজায় রাখে কলম্বিয়া। লুইস দিয়াজ, জেমস রদ্রিগেজ এবং জোহান মোহিকার সমন্বিত আক্রমণে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও ঘানার গোলরক্ষক আতি জিগি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে আরও বড় ব্যবধানে হার থেকে রক্ষা করেন।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ঘানা। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট।
কলম্বিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের কারণে আফ্রিকার দলটি উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।
এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে নকআউট পর্ব অতিক্রম করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল কলম্বিয়া। আগের আসরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলেও এবার আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে নেস্তর লরেনসোর দলের সামনে।
দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণভাগের দৃঢ়তাও প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে চাপ সামলে ফল এনে দেওয়ার সক্ষমতা কলম্বিয়াকে শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর তালিকায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড। ইউরোপের দলটি আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।
ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই শক্তিশালী দল। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত লড়াই ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবলের কারণে ম্যাচটি হতে পারে নকআউট পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই ‘করো বা মরো’ পরিস্থিতির। এমন পর্যায়ে জয় অর্জন একটি দলের মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।
কলম্বিয়ার এই জয় শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করেনি, বরং শিরোপার পথে তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ঘানার জন্য এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো হতাশার মধ্য দিয়ে।
জোন আরিয়াসের একমাত্র গোলেই ঘানাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেছে কলম্বিয়া। আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখানো দলটি এখন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আরও বড় পরীক্ষার অপেক্ষায়। সেই ম্যাচে জয়ী দলই জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
