মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগর; পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা
ঢাকা: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি আরও জোরালো হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার রাত ১টার মধ্যে দেশের ১৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো আবহাওয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘমালার বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃষ্টিপাতের প্রবণতা জোরদার হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনে দেশের ছয় বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি নিম্নচাপের কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান করছিল। একই সময়ে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকেও এটি কয়েকশ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের আশপাশে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং উপকূলীয় এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শন অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।
সামুদ্রিক আবহাওয়া বিরূপ থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি কৃষি, পরিবহন ও মৎস্য খাতের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলি জমিতে পানি জমে কৃষকদের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নৌ ও সড়ক যোগাযোগেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নদীপথ ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযান, উপকূলীয় বাসিন্দা এবং পাহাড়ি এলাকার মানুষকে পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
