এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ পর্যটন সচিবকে
হজ পালন শেষে দেশে ফেরা অন্তত ১৩০ জন হজযাত্রীর লাগেজ ও মালামাল চুরির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আদালত এ নির্দেশনা দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে হজ পালন শেষে দেশে ফেরা বহু যাত্রী বিমানবন্দরে লাগেজ গ্রহণের পর তাদের মালামাল খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু লাগেজের তালা ভাঙা ছিল, আবার কিছু ব্যাগ থেকে মূল্যবান সামগ্রী নিখোঁজ পাওয়া যায়।
এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ঘটনার তদন্ত এবং দায় নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিকে চুরির অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা যাচাই, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ এবং দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশও তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতি বছর লাখো বাংলাদেশি হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দর ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের আস্থা বজায় রাখতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে।
হজযাত্রীরা সাধারণত দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও উল্লেখযোগ্য ব্যয় বহন করে পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফেরার পর তাদের ব্যক্তিগত মালামাল হারিয়ে যাওয়া শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং এটি যাত্রীসেবার মান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
আইন ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থ রক্ষার পথ সুগম হবে।
হজ ফেরত যাত্রীদের লাগেজ ও মালামাল চুরির অভিযোগে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ বিষয়টির গুরুত্বকেই সামনে এনেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও লাগেজ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ তৈরি হতে পারে।
