বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম বৃহৎ পদোন্নতি; নতুন দায়িত্বে যোগদানের নির্দেশ
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতির অংশ হিসেবে ১৭২ জন উপসচিবকে যুগ্ম-সচিব পদে উন্নীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসন ক্যাডারে এটিই প্রথম বড় আকারের পদোন্নতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আপাতত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে তাদের নতুন কর্মস্থল বা দায়িত্ব নির্ধারণ করে এখনও পৃথক কোনো পদায়ন আদেশ জারি করা হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরাসরি সিনিয়র সচিব বরাবর অথবা নির্ধারিত ই-মেইলের মাধ্যমে যোগদানপত্র জমা দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে কোনো কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তিত হয়ে থাকলে, বর্তমান কর্মস্থলের তথ্য উল্লেখ করে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক বা ভিন্নধর্মী তথ্য পাওয়া গেলে পদোন্নতির আদেশ সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা সরকার সংরক্ষণ করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই পদোন্নতির আগে প্রশাসনে যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল এক হাজারের বেশি। নতুন পদোন্নতির ফলে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল।
জানা গেছে, এবারের পদোন্নতিতে মূলত বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
সরকারের বিদ্যমান পদোন্নতি বিধিমালা অনুযায়ী, যুগ্ম-সচিব পদে উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্যাডারের উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা নির্ধারিত রয়েছে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে যুগ্ম-সচিব পদে বিবেচনার জন্য উপসচিব হিসেবে ন্যূনতম পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে অন্তত ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিকল্পভাবে উপসচিব হিসেবে কমপক্ষে তিন বছর এবং মোট ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাও পদোন্নতির যোগ্যতা হিসেবে গণ্য হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ পরিসরের এই পদোন্নতি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্বের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মোদ্যম বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে দ্রুত পদায়ন সম্পন্ন না হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
১৭২ কর্মকর্তার যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি প্রশাসনের কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন কর্মকর্তাদের পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের পরই প্রশাসনে এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ প্রভাব স্পষ্ট হবে।
