২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহনে ৩০ শতাংশ ইভি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা
দেশে দ্রুত সম্প্রসারিত বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) শিল্পকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০২৬’ শীর্ষক প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে অংশীজনদের মতামত সংগ্রহে একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ সভায় নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন পরিবহন খাতে অন্তত ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ভিত্তি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সড়ক পরিবহন খাত বর্তমানে দেশের পরিবহনজনিত মোট কার্বন নিঃসরণের সবচেয়ে বড় উৎস। মোট পরিবহন খাতের কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮১ শতাংশই সড়ক পরিবহন থেকে আসে। ফলে পরিবেশ দূষণ কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেডের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন জ্যানিস হুসেইন এবং জিআইজেড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গোমবার্ট।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন, আমদানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, চার্জিং স্টেশন সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ সহায়তার মতো বিষয়গুলোকে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, পরিবেশগত ঝুঁকি কমবে এবং একটি টেকসই সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
