৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলারের অর্থায়নের আশা সরকারের, আলোচনায় থাকবে কর সংস্কার, ব্যাংকিং খাত ও নতুন বেতনকাঠামো
বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি প্রণয়নের সম্ভাবনা যাচাই করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছেছে। রোববার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকার আগামী তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন প্যাকেজ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ মোকাবিলা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইএমএফের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনার। সফরকালে তারা অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচক, আর্থিক খাতের অবস্থা এবং সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করবেন।
সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্ভাব্য নতুন বেতনকাঠামো, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং এর আর্থিক প্রভাবও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে গত জুন মাসে আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
আলোচনায় সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে কর অব্যাহতির যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের অগ্রগতি, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কার এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।
এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ এবং কর-ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়েও আইএমএফ প্রতিনিধিরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি, আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় হবে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই আলোচনা ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলি এবং সরকারের জন্য অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার খাতগুলো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও আইএমএফের মূল্যায়নের আওতায় আসবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানি ব্যয়, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়, সরকারি ভর্তুকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হবে।
একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রদত্ত ভর্তুকি এবং পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তার বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে।
সফর শেষে প্রতিনিধি দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন ওয়াশিংটনে আইএমএফ সদর দপ্তরে জমা দেবে। মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবর মাসে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত আলোচনা শুরু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক অর্থায়নের বর্তমান বাস্তবতায় আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সঙ্গে কাঠামোগত সংস্কার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে।
