কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপীয় প্রতিরোধ ভাঙতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগে নতুন সমীকরণ খুঁজছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই কঠিন বাধা অতিক্রম করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ আটের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মতো সুসংগঠিত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দলকে। আগামীকাল কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা, আর সুইজারল্যান্ড চাইছে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছাতে।
চলতি আসরে সুইজারল্যান্ড নিজেদের রক্ষণ ও মাঝমাঠের দৃঢ়তা দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছে। শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পুরো ম্যাচ ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে কোনো গোল হজম না করে টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা। ফলে আর্জেন্টিনার জন্য এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং কৌশলগত দক্ষতারও বড় পরীক্ষা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচের মূল লড়াই হবে মাঝমাঠে। আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত। শেষ ম্যাচে তার পারফরম্যান্স স্কালোনির পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পারেদেস শুধু বল বণ্টনেই কার্যকর ছিলেন না, বরং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার উপস্থিতিতে এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো ডি পল এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার আরও স্বাধীনভাবে আক্রমণে অংশ নিতে পারেন। সুইজারল্যান্ডের শক্তিশালী মিডফিল্ডের বিপক্ষে এই সমন্বয় আর্জেন্টিনার জন্য বড় অস্ত্র হতে পারে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে প্রচলিত উইঙ্গার ব্যবস্থার পরিবর্তে কেন্দ্রভিত্তিক ফুটবল বেশি দেখা গেছে। তবে শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ মাঝমাঠে চাপ সৃষ্টি করায় আক্রমণভাগে সমস্যায় পড়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
সেই পরিস্থিতিতে লিওনেল মেসি ধীরে ধীরে ডান প্রান্তে সরে গিয়ে খেলার ধরণ বদলে দেন। এর ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ছড়িয়ে পড়ে এবং মাঝখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেই কৌশল থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ গোলের সুযোগ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ধরনের পরিকল্পনা দেখা যেতে পারে। মেসিকে ডানদিকের হাফ-স্পেসে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বিভ্রান্তি তৈরি করার কৌশল আর্জেন্টিনার জন্য কার্যকর হতে পারে।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত সাতবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। এসব ম্যাচে সুইসরা কোনো জয় পায়নি।
বিশ্বকাপেও দুই দলের স্মৃতি আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলে। বিশেষ করে ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় গোলে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। সেই হার এখনো সুইস সমর্থকদের মনে তাজা স্মৃতি হয়ে আছে।
অতীতের রেকর্ড যতই আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকুক, বর্তমান সুইজারল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রক্ষণে শৃঙ্খলা, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ তাদের বড় শক্তি।
সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনাকে হারানো কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তার দল আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে এখন লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখার অভিযান অব্যাহত রাখা। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড চাইছে নতুন ইতিহাস লিখতে। ফলে কানসাস সিটির এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, কোয়ার্টার ফাইনালের এই মহারণে দেখা যাবে উচ্চমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যেখানে মেসির জাদু এবং সুইসদের সংগঠিত ফুটবল ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
