দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে আফ্রিকান প্রতিনিধিকে বিদায়; শেষ চারে ফরাসিদের অপেক্ষা নতুন চ্যালেঞ্জ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। প্রথমার্ধে মরক্কোর দৃঢ় রক্ষণভাগের সামনে গোলের দেখা না পেলেও বিরতির পর কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমানে ডেম্বেলের দুটি গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে মরক্কোর পথরোধ করল ফরাসিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় ফ্রান্সকে। বল দখল ও আক্রমণ নির্মাণে এগিয়ে থাকলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকে ফরাসিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ সাজায় ফ্রান্স। দ্রুতগতির আক্রমণে এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে এবং দেজিরে দুয়ে বারবার মরক্কোর রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে পেনাল্টিও পায় ফরাসিরা। তবে স্পটকিক থেকে নেওয়া এমবাপ্পের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বুনো।
এ ছাড়া প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স। অন্যদিকে বলের দখলে প্রায় সমান থাকলেও আক্রমণভাগে কার্যকর উপস্থিতি দেখাতে পারেনি মরক্কো।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় ফ্রান্স। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া এমবাপ্পের চমৎকার বাঁকানো শট জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি। গোলরক্ষক বুনোর পক্ষে বলটি ঠেকানো প্রায় অসম্ভব ছিল।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় আটে। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
প্রথম গোলের মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমানে ডেম্বেলে। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি মরক্কোর জালে দ্বিতীয় বল পাঠান। এরপর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ফ্রান্সের আক্রমণে তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি আক্রমণভাগে সৃজনশীলতা দেখিয়েছেন এবং একাধিক সুযোগ তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে মরক্কোর তরুণ প্রতিভা আইয়ুব বুয়াদ্দি প্রত্যাশিত ছন্দে খেলতে পারেননি। শক্তিশালী ফরাসি মিডফিল্ডের চাপে তিনি নিজের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে ব্যর্থ হন।
তবে ম্যাচের শেষভাগে ফরাসি শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রতিপক্ষের এক ট্যাকলের পর ডান পায়ে অস্বস্তি অনুভব করায় এমবাপ্পেকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশম। সেমিফাইনাল সামনে রেখে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলেও ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বকাপ শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শেষ চারের ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে দেশমের শিষ্যদের।
অন্যদিকে মরক্কোর জন্য এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলেও দলটির লড়াকু মানসিকতা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রথমার্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের আক্রমণভাগের ধার সামলাতে পারেনি মরক্কো। এমবাপ্পে ও ডেম্বেলের গোলেই নিশ্চিত হয়েছে ফরাসিদের জয়। ফলে বিশ্বকাপের শেষ চারেও নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখল ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি দলটি।
