দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান; ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষায় পাসের হার ৯৩.৫৩ শতাংশ
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল। একই সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেছে। দুই পরীক্ষার ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতেই এ বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ অনুসারে মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনা থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ তালিকায় স্থান পেয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের সাফল্যের হার তুলনামূলক বেশি। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ ছাত্রী এবং ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ ছাত্র।
দেশজুড়ে ৭৮ হাজার ৮১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৫ শতাংশ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অংশগ্রহণের হার আরও বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর অংশকে মূল্যায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কেবল শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের মাধ্যম নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগিতামুখী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নেও এ ধরনের মূল্যায়ন ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জানায়, এবারের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দেশের ৬৪৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৯১৫টি কলেজের প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
ফলাফল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ফলাফলে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা সংশোধন কিংবা প্রয়োজন হলে ফল বাতিল করার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক স্তরের বৃত্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ডিগ্রি পরীক্ষার ইতিবাচক ফল দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং মেধাবৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে।
একই দিনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ও ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ শিক্ষাঙ্গনে স্বস্তি ফিরিয়েছে। হাজারো শিক্ষার্থী তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে নতুন প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
