‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ মুক্তির পর নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান দীর্ঘদিন ধরে বৈচিত্র্যময় ও মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে এবার তিনি অভিনয়জীবনে কিছুটা ভিন্ন স্বাদের চরিত্রে নিজেকে দেখতে চান। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা, পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়া জানান, জটিল ও গভীর মনস্তত্ত্বনির্ভর চরিত্রের পাশাপাশি তিনি এখন তুলনামূলক হালকা মেজাজের গল্পে অভিনয়ের সুযোগ খুঁজছেন।
’
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। এটি ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’র ধারাবাহিকতা। নতুন কিস্তিতেও জয়া অভিনয় করেছেন মেঘনা চরিত্রে, যার জীবন ও সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে গল্প।
জয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম চলচ্চিত্রের পর সময়ের সঙ্গে মেঘনার জীবনেও পরিবর্তন এসেছে। পরিবারে তার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে, বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। তবে নতুন গল্পে আবারও তাকে কঠিন বাস্তবতা ও পারিবারিক জটিলতার মুখোমুখি হতে দেখা যাবে।
পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির সঙ্গে জয়ার দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। ‘বিসর্জন’ থেকে শুরু করে ‘বিজয়া’ এবং ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিরিজ—একাধিক সফল কাজের মাধ্যমে এই জুটি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে।
কেন এই সহযোগিতা বারবার সফল হচ্ছে—এ প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, এর নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তাঁর জানা নেই। তবে সম্পর্কনির্ভর গল্প নির্মাণে কৌশিক গাঙ্গুলির দক্ষতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, পরিচালকের গল্প বলার ধরন এবং চরিত্র নির্মাণের ক্ষমতাই দর্শকদের কাছে কাজগুলোকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
গত কয়েক বছরে জয়া আহসান ধারাবাহিকভাবে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কখনো তিনি হয়েছেন সাংবাদিক, কখনো মা, কখনো অতিপ্রাকৃত চরিত্র, আবার কখনো সাহিত্যনির্ভর গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে এসব চরিত্রের অধিকাংশই ছিল মানসিক জটিলতা ও আবেগঘন পরিস্থিতিনির্ভর। তাই দীর্ঘ সময় ধরে এমন চরিত্রে কাজ করার পর এখন তিনি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ও প্রাণবন্ত গল্পে অভিনয় করতে আগ্রহী।
অভিনেত্রীর মতে, একজন শিল্পীর জন্য নিজেকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে উপস্থাপন করা জরুরি। সে কারণেই নতুন ধরনের গল্প ও চরিত্র নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চরকি অ্যাওয়ার্ডসে ওয়েব অ্যান্থলজি ‘২ষ’-এর একটি পর্বে অভিনয়ের জন্য সেরা নারী অভিনয়শিল্পীর স্বীকৃতি পেয়েছেন জয়া আহসান।
ওই পর্বে রহস্যময় ও ব্যতিক্রমী এক চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের চমকে দেয়। ছোট পরিসরের চরিত্র হলেও গল্পে এর গুরুত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। জয়া বলেন, ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ বরাবরই বেশি, আর শক্তিশালী গল্প থাকলে তিনি চরিত্রের দৈর্ঘ্যের চেয়ে প্রভাবকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত অনেক নির্মাতার সঙ্গে কাজ করলেও নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ এখনও অটুট রয়েছে বলে জানান জয়া।
তিনি মনে করেন, নতুন নির্মাতারা প্রায়ই ভিন্ন ধরনের গল্প ও নির্মাণশৈলী নিয়ে আসেন, যা একজন অভিনেতার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। একই সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষের অনুপস্থিতিও তিনি অনুভব করেন বলে উল্লেখ করেন।
গত বছর একাধিক চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়া এবং দুই বাংলায় প্রচারণামূলক ব্যস্ততার পর চলতি বছরে কিছুটা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন জয়া আহসান।
বর্তমানে কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলতে চান না তিনি। তবে ভবিষ্যতে আরও নতুন গল্প ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানামাত্রিক চরিত্রে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন জয়া আহসান। তবে শিল্পীসত্তার নতুন অনুসন্ধানে এবার তিনি খুঁজছেন ভিন্ন আবহের গল্প। জটিল চরিত্রের পাশাপাশি হালকা মেজাজের ভূমিকায় তাঁকে দেখার সুযোগ মিললে দর্শকদের জন্য সেটিও হতে পারে এক নতুন অভিজ্ঞতা।
