ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আগামী শনিবার মিয়ামিতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার হতাশা নিয়েই এবার সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে নামবে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যায় ফ্রান্স। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয় ইংল্যান্ডকে। ফলে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শেষ করার সুযোগ রয়েছে উভয় দলের সামনে।
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে সাধারণত খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া না হলেও এবার ম্যাচটি কয়েকটি কারণে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই ম্যাচ। বর্তমানে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি সমান আটটি করে গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে এমবাপ্পের সামনে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহাম ছয়টি করে গোল করেছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বড় পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে তারাও গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতায় নতুন করে আলোচনায় আসতে পারেন।
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল সেমিফাইনাল পরাজয়ের পর স্বীকার করেন, কোনো খেলোয়াড়ই এমন ম্যাচ খেলতে চায় না। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ফুটবলারের লক্ষ্য থাকে ফাইনালে খেলা এবং বিশ্বকাপ জেতা। তবে পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে এই ম্যাচটি ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ১৪ বছরের দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে টুর্নামেন্ট শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি। দেশ্যমের অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল এবং ২০২২ সালে রানার্সআপ হয়েছিল। এবারও দলকে শেষ চারে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর দেশ্যম বলেন, প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছাতে না পারলেও তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো রয়েছে এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই দল মাঠে নামবে।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। ৩৩ বছরে পা রাখতে যাওয়া এই স্ট্রাইকারের জন্য এটি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি নন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে নিজের জন্য সবচেয়ে বড় গর্ব বলে উল্লেখ করেন ইংলিশ অধিনায়ক।
এদিকে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে এমবাপ্পের সামনে। বর্তমানে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ২০, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র একটি কম।
খেলোয়াড়দের ক্লান্তি বিবেচনায় উভয় দলই একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে। ইংল্যান্ডের কোচ টুখেল তরুণ মিডফিল্ডার কোবি মাইনু ও স্ট্রাইকার অলি ওয়াটকিন্সকে শুরুর একাদশে সুযোগ দিতে পারেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের হয়ে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এন’গোলো কান্তের মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবারের আসরে এখনো মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
সব মিলিয়ে শিরোপার লড়াই না হলেও মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি সম্মান, ব্যক্তিগত অর্জন এবং ভবিষ্যতের বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে দুই দলের জন্যই।
