পরিবেশবান্ধব বস্ত্র প্রযুক্তি ও নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে ৩৪ মিলিয়ন ডলার সহায়তা
বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তা ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং তার স্ত্রী, সাবেক সাংবাদিক লরেন সানচেজ ফ্যাশন খাতে টেকসই উদ্ভাবন ও শিক্ষার উন্নয়নে ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩২৭ কোটি রুপি) অনুদান দিয়েছেন। এই অর্থ পরিবেশবান্ধব নতুন ধরনের বস্ত্র উপাদান উদ্ভাবন এবং উদীয়মান সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে ব্যয় করা হবে।
বেজোস আর্থ ফান্ডের মাধ্যমে এই অর্থ এমন সব গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হচ্ছে, যারা পলিয়েস্টার ও তুলার বিকল্প হিসেবে জৈবভাবে অবক্ষয়যোগ্য (বায়োডিগ্রেডেবল) তন্তু তৈরির কাজ করছে। গবেষকেরা বর্তমানে প্লাস্টিকমুক্ত কৃত্রিম সিল্ক এবং ব্যাকটেরিয়া-নির্ভর সুতা তৈরির মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। যদিও এসব উপাদান এখনও তুলনামূলক ব্যয়বহুল, তবে ভবিষ্যতে পোশাক শিল্পের পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেজোস আর্থ ফান্ডের ভাইস চেয়ার লরেন সানচেজ এক বিবৃতিতে বলেন, “আপনি যখন জানতে চান ভবিষ্যতে পোশাক কী দিয়ে তৈরি হতে পারে, তখন উত্তরগুলো সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা এমন বিজ্ঞানীদের সহায়তা করছি, যারা কাপড় তৈরির ধারণাই বদলে দিচ্ছেন। ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ এখনই নির্মিত হচ্ছে এবং আমরা সেই মানুষগুলোর পাশে আছি, যারা এই পরিবর্তন আনছেন।”
লরেন সানচেজের জন্য এই উদ্যোগটি কেবল দাতব্য কার্যক্রম নয়, বরং ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। কিশোর বয়সে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের কারণে তিনি নিজের প্রম ড্রেস নিজেই সেলাই করেছিলেন। সে সময় তিনি অনির্ণীত ডিসলেক্সিয়ায় ভুগছিলেন এবং স্বল্প বেতনের চাকরিতে কফি পরিবেশন করতেন। পাশাপাশি গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত তার দাদি এলসির সঙ্গেও নিয়মিত সময় কাটাতেন।
বর্তমানে তিনি ও জেফ বেজোস তাদের সম্পদ ব্যবহার করে ফ্যাশন শিল্পকে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জেফ বেজোস বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক বিক্রেতাদের একটি। গত বছর অ্যামাজন বিশ্বব্যাপী ১৩ বিলিয়নেরও বেশি একই দিন বা পরদিন সরবরাহযোগ্য পণ্য পাঠিয়েছে।
বর্তমানে দ্রুতগতির ফ্যাশন (ফাস্ট ফ্যাশন) ও বিলাসবহুল পোশাক শিল্পে পলিয়েস্টার ও ভিসকোজের মতো সিনথেটিক উপাদানের ব্যবহার বেশি। কারণ এগুলো তুলনামূলক সস্তা এবং উৎপাদনে সহজ। তবে এসব উপাদান পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, উচ্চ কার্বন নিঃসরণ ঘটায় এবং সহজে জৈবভাবে নষ্ট হয় না।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেজোস আর্থ ফান্ড পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে, অ্যামাজন ২০৪০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো কার্বন’ লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই ফ্যাশন উপকরণ উদ্ভাবনে এই ধরনের বিনিয়োগ ভবিষ্যতে পোশাক শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
