বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালের আগে সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকেরা নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। অধিকাংশের মতে স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও লিওনেল মেসির উপস্থিতির কারণে আর্জেন্টিনাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শিরোপার লড়াইয়ে একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়েছে।
পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা ফাইনালে স্পেনকে এগিয়ে রেখেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা স্পেনের ৫৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার মাইকেল ওভেনের মতে, এবারের টুর্নামেন্টে স্পেনই সবচেয়ে যোগ্য দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, “স্পেনের হয়তো সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত তারকা নেই, কিন্তু দল হিসেবে তারা সাহসী, আত্মবিশ্বাসী এবং সংগঠিত। তারা সমষ্টিগতভাবে অসাধারণ ফুটবল খেলছে।”
সুইডেনের সাবেক তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও স্পেনকেই এগিয়ে রেখেছেন। ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, “ফ্রান্সকে তারা যেভাবে সামলেছে, তাতে আমার বিশ্বাস আর্জেন্টিনাকেও সামলাতে পারবে। স্পেন নিজেদের খেলাটাই খেলবে এবং ম্যাচে আধিপত্য দেখাবে।”
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জন টেরিও মনে করেন, লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের শক্তি আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসও দলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পেনের জার্সির ব্যাজে সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিশ্বকাপ তারকার প্রতীকসংবলিত একটি ছবি শেয়ার করেন এবং লিখেন, “আর কেন নয়?”
তবে সবাই যে স্পেনের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন, তা নয়। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার মনে করেন, স্পেনকে থামানোর সামর্থ্য থাকলে সেটি আর্জেন্টিনারই আছে। তিনি বলেন, “তাদের মানসিক দৃঢ়তা ও দলীয় ঐক্য অসাধারণ। কঠিন পরিস্থিতি থেকেও তারা বারবার ফিরে এসেছে। আর দলে যখন মেসির মতো একজন জিনিয়াস থাকে, তখন সম্ভাবনা সব সময়ই থাকে।”
ফুটবল বিশ্লেষক মাইকা রিচার্ডসের মতে, স্পেনকে হারাতে হলে আর্জেন্টিনাকে রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যেতে হবে। তিনি বলেন, “বল মেসির কাছে পৌঁছে দিতে হবে, আর আলভারেজ কিংবা লাউতারো মার্তিনেজকে প্রতিপক্ষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে, সেই ধাঁচ বজায় রাখতে হবে।”
অন্যদিকে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক গ্যারি লিনেকার ফাইনালের আগে স্পেনকে নিজের পছন্দ হিসেবে ধরে রাখলেও আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “মেসির বিপক্ষে যাওয়া কঠিন। সে অসাধারণ একজন ফুটবলার। ম্যাচটি খুব কাছাকাছি হবে, সত্যিকার অর্থেই ৫০-৫০ লড়াই।”
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী অবশ্য কোনো পক্ষ নিতে চাননি। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “আমি যাদের সমর্থন করি, তারাই হেরে যায়। তাই এবার আমি শুধু একটি ভালো ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।”
বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে, আর আর্জেন্টিনা চাইছে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়তে।
