দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কয়েকটি বিভাগ এবং ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সোমবার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে।
পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী দুই দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে দুই নদীর পানিই আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। এফএফডব্লিউসির মতে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি পুনরায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে।
এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বাড়ছে, যদিও পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
