২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের হাফটাইম শোতে ম্যাডোনা ও শাকিরার প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ৬৭ বছর বয়সী ম্যাডোনা এবং ৪৯ বছর বয়সী শাকিরার উদ্যম, নৃত্য ও মঞ্চ উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁদের ফিটনেসের মূল রহস্য নিয়মিত অনুশীলন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো সুপারবোলের আদলে আয়োজিত হাফটাইম শোতে অংশ নেন বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকজন সংগীতশিল্পী। জাস্টিন বিবার, বিটিএস, বার্না বয় ও ক্রিস মার্টিনের মতো তারকাদের উপস্থিতি থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ‘কুইন অব পপ’ ম্যাডোনা এবং কলম্বিয়ান গায়িকা শাকিরা।
বিশ্বজুড়ে দর্শকরা তাঁদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বয়স বাড়লেও দুই শিল্পীর শক্তি, ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাস তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা।
হাফটাইম শোতে ম্যাডোনা ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো ও রোনালদিনহোর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত হন। তিনি তাঁর জনপ্রিয় গান ‘মিউজিক’-এর নতুন সংস্করণ পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।
দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে ম্যাডোনা সবসময়ই ফিটনেসকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর দৈনন্দিন রুটিনে রয়েছে সপ্তাহে প্রায় ছয় দিন ব্যায়াম, শক্তিবর্ধক অনুশীলন, পিলাটিস, যোগব্যায়াম এবং নিয়মিত নাচের মহড়া। কনসার্টের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দীর্ঘ সময়ের কোরিওগ্রাফি অনুশীলনও তাঁর জন্য কার্যকর কার্ডিও ওয়ার্কআউট হিসেবে কাজ করে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যাভ্যাসও তাঁর সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি।
২০২৩ সালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে আবার মঞ্চে ফিরে আসেন ম্যাডোনা। তাঁর মতে, ধারাবাহিক অনুশীলন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই তাঁকে নতুন করে শক্তি জোগায়।
বিশ্বকাপের হাফটাইম শোতে বার্না বয়ের সঙ্গে ‘দাই দাই’ গান পরিবেশন করেন শাকিরা। নাইজেরিয়ান অ্যাফ্রোবিটস ও আফ্রিকান স্ট্রিট ড্যান্সের সমন্বয়ে তাঁর পরিবেশনা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। উগান্ডার জনপ্রিয় নৃত্যদল ‘ঘেটো কিডস’-এর সদস্যরাও এ পরিবেশনায় অংশ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শাকিরার ফিটনেসের সবচেয়ে বড় উৎস তাঁর নাচ। বেলিড্যান্স, লাতিন নাচ এবং কনসার্টভিত্তিক অনুশীলন তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের মধ্যে রাখে।
তাঁর নিয়মিত রুটিনে সাধারণত সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন ব্যায়াম, কার্ডিও, শক্তিবর্ধক অনুশীলন এবং হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং (এইচআইআইটি) অন্তর্ভুক্ত থাকে। পাশাপাশি তিনি প্রোটিন, ফল ও শাকসবজিভিত্তিক খাদ্য গ্রহণ করেন এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলেন।
শাকিরা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ফিটনেস তাঁর কাছে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; দীর্ঘ সময় গান গাওয়া ও নাচের জন্য এটি পেশাগত প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাডোনা ও শাকিরার সুস্থতা এবং কর্মক্ষমতার পেছনে কোনো অলৌকিক রহস্য নেই। নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং বছরের পর বছর একই স্বাস্থ্যকর রুটিন অনুসরণ করাই তাঁদের সাফল্যের মূল ভিত্তি।
বিশ্বকাপের হাফটাইম শোতে তাঁদের উপস্থিতি শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি এমন একটি বার্তা দিয়েছে যে বয়স কখনোই সাফল্য, কর্মশক্তি কিংবা সুস্থ জীবনযাপনের পথে বাধা নয়। বরং শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিকতাই দীর্ঘদিন সক্রিয় ও প্রাণবন্ত থাকার প্রধান চাবিকাঠি।
