শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে আকস্মিকভাবে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কে. সি. বেনুগোপাল, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন এবং কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার অংশ নেন।
কংগ্রেস নেতাদের এই আকস্মিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলটির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
অবস্থান শুরুর কিছু সময় পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব সেখানে যান। জিতেন্দ্র সিংকে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে দেখা যায়।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৈয়দ নাসির হুসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “তাঁরা চাইছিলেন আমরা চলে যাই। আমরা রাজি হইনি। আমরা চাই, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ করুন।”
বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এসে গেছি। গতকাল ছাত্রদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের জবাব চাইতে এসেছি। এই সরকার কোনো দায় নিতে চায় না। তারা সংসদে বিতর্কও চায় না। দেশের যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।”
কর্মসূচির খবর পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে কংগ্রেস নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
কংগ্রেস নেতা মনিক্কম টেগোর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে যান ও চলে আসেন। কক্ষে যান না। গতকালও সামান্য সময় পর চলে গেছেন। আজও। কোথায় যাব আমরা?”
সন্ধ্যার দিকে দেওয়া আরেক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, “ছাত্রদের ওপর আক্রমণ প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের ওপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন বিনা জবাবদিহিতে, বিনা ক্ষতিতে পার পেয়ে যাবেন। এবার তা হবে না। আমাদের ছাত্ররা সুবিচার পাক—এ কথা যাঁরা বিশ্বাস করেন, সেই প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে আমি এই ধরনায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।”
কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের দাবি, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চেয়ে আগেই লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় বিরোধী দল এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার বুধবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকে। কংগ্রেসের পাশাপাশি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিক দলের নেতারাও এতে যোগ দেন। এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এবং আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদবকেও কর্মসূচিতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) সংসদ ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে। সোমবার যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, বিপুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার পরও শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছে যান। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
