ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরান এখনো আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক নয়। এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য বিপজ্জনক নজির হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বুধবার আসিয়ান (ASEAN) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত, যদি দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।
তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা ও সংলাপে অংশ নিতে উন্মুক্ত এবং প্রস্তুত, তবে শর্ত হলো দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।”
তবে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ইরান আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। রুবিও বলেন, “তারা যদি আলোচনায় আন্তরিক হয়, আমরাও আন্তরিক। কিন্তু যদি না হয়, তাহলে আমাদের স্বার্থ এবং আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, আমরা তা করব।”
রুবিওর এই বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের ওপর টানা একাদশ রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে।
চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলে, জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করে এবং অর্থ না দিলে জাহাজে হামলার হুমকি দেয়, তবে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। তার মতে, এমন দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলও অনুসরণ করতে পারে।
রুবিও আরও বলেন, “মূল বিষয়টি খুবই সহজ। ইরান এমন একটি অধিকার দাবি করছে, যা বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় তাদের নেই—আর সেটি হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিই বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন রুবিও। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
তার মতে, ২১শ শতাব্দীর ইতিহাস অনেকাংশে এই অঞ্চল এবং এখানকার ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এর একদিন আগে, মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলার হুমকি দেন। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই সেখানে আঘাত হানা হতে পারে। এর জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, নাতাঞ্জে নতুন হামলা হলে সেটিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র ও সমর্থকদের সব স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং আরও ৫০০ জন আহত হয়েছেন।
চলমান সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
