নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিহার ও আসামের পর তৃতীয় রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ শিথিলের পথে এগোচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলবে। যদিও ওই মামলার অভিযুক্তদের আর আটক রাখা হবে না বলে জানা গেছে।
এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে পরিচালিত পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা এর আগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারা দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও আসামে আটক আন্দোলনকারীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের মধ্যে সব বন্দিকে মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহার না হলে দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংগঠনটির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিহার সরকার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির উদ্যোগের কথা জানায়। পরে আসাম সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলায় আটক ১৩ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চার দফা নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। সরকারের দাবি, প্রকৃত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আলাদা করে দেখা হচ্ছে। সে কারণেই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় কয়েকজন সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন।
এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ধর্মতলার বিক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, তদন্তে অন্তত ৭০ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ, যাদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা ককরোচ জনতা পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই।
সরকারের মতে, ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর আইনি কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।
