রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে আদালতে হাজির হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি এর আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে আগামী রোববার অথবা সোমবার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।
আদালত প্রাঙ্গণে তিনি বলেন, “আজ সকালে আমাকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমি জানি, আজ যদি আদালতে না আসতাম, তাহলে মনে করা হতো আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না, সব সময় আত্মপ্রকাশ করি। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি।”
শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সে সময়কার কোনো বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান এবং নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে আসছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান। তবে ২০১৪ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণ করা হয় এবং পরে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে ওই বছর গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায় তাঁর সংসদ সদস্য পদও অবসান ঘটে।
