মাত্র চার বছর বয়সে বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন জোয়ি কিং। শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী হিসেবে। তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান এবং নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার লড়াই। জন্মদিন উপলক্ষে অভিনেত্রীর অভিনয়জীবনের নানা দিক আবারও আলোচনায় এসেছে।
জোয়ি কিংয়ের অভিনয়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর দুই বড় বোন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, ছোটবেলা থেকেই জোয়ির কথা বলা ও অভিব্যক্তিতে অভিনয়ের স্বাভাবিক প্রতিভা রয়েছে। সেই উৎসাহেই প্রথমে বিজ্ঞাপনে এবং পরে টেলিভিশন সিরিজ ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
শৈশবে ‘দ্য সুইট লাইফ অব জ্যাক অ্যান্ড কোডি’, ‘রামোনা অ্যান্ড বিজাস’ এবং ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’-এর মতো প্রযোজনায় অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন জোয়ি।
একাধিক সাক্ষাৎকারে জোয়ি জানিয়েছেন, শিশুশিল্পী থেকে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সহজ ছিল না। এলি অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পরে অনেকেই আমাকে দীর্ঘদিন শুধু ‘শিশুশিল্পী’ হিসেবেই দেখেছেন। যে কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালো চরিত্র পাচ্ছিলাম না। শিশুশিল্পী হিসেবে সফল হওয়া দারুণ ব্যাপার। কিন্তু সেখান থেকে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা খুব কঠিন। এটি সত্যিই দীর্ঘ এক যাত্রা।”
অভিনয়জীবনের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমি সব সময় নিজের কাজ দিয়েই উত্তর দিতে চেয়েছি।”
২০১৮ সালে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘দ্য কিসিং বুথ’ জোয়ি কিংয়ের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। ‘এল ইভান্স’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং তরুণ দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত বাড়তে থাকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাঁকে অনুসরণ করেন প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ মানুষ।
পরের বছর ‘দ্য অ্যাক্ট’ সিরিজে বাস্তব চরিত্র জিপসি রোজ ব্ল্যানচার্ড-এর ভূমিকায় অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এমি ও গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার কাজেও নিজেকে যুক্ত করেছেন জোয়ি কিং। নিজের নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। নেটফ্লিক্সের ‘আগলিজ’ চলচ্চিত্রে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্যামেরার পেছনের কাজ নিয়েও আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি খুবই সাধারণ। কিন্তু আমি অভিনয় ছাড়া থাকতে পারি না। থাকলে ক্রেজি হয়ে যাই।”
১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী একসময় আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো শিশুশিল্পীর পরিচয়েই তাঁর ক্যারিয়ার থেমে যাবে। তবে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে তিনি এখন হলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের একজন।
সম্প্রতি ‘উই ওয়ার দ্য লাক ওয়ান্স’ সিরিজে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘অ্যা ফ্যামিলি অ্যাফেয়ার’ এবং ‘বুলেট ট্রেন’। বর্তমানে তাঁর নতুন ছবি ‘দ্য প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক্যাল-২’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইএমডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জোয়ি কিংয়ের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
টিন ভোগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জোয়ি বলেন, “আমি সব সময় এমন কাজ করতে চাই, যা আমাকে ভয় দেখায়। কারণ, নিজের স্বস্তির জায়গা থেকে বেরিয়ে এলেই একজন শিল্পী হিসেবে সবচেয়ে বেশি শেখা যায়।”
