রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, অধিকাংশ সবজির কেজি ৭০ টাকার ওপরে। সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কাঁচা মরিচের, যার দাম মানভেদে প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে। ধারাবাহিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজার এবং কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুই বাজারেই আগের সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে।
সবজির মধ্যে বরবটি ও বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। এসব সবজি প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলার দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং বর্ষাকালের সবজি কাঁকরোল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, কচুমুখী ও পটোলের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। শসার কেজি ছিল ১০০ টাকা। মাঝারি আকারের একটি চালকুমড়ার দাম রাখা হয়েছে ৭০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে কাঁচা পেঁপে, যার কেজি বাজারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
ডিমের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এক ডজন কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪৫ টাকা। তবে যেসব দোকানে খুচরা ও পাইকারি—দুইভাবেই ডিম বিক্রি হয়, সেখানে হালিপ্রতি দাম ৪৮ টাকা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর বাজারে প্রতি হালি ডিম ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা। সে হিসাবে বছরে ডিমের দাম ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে অস্থিরতা দেখা গেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায়। অথচ টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেও একই পণ্যের দাম ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বেড়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে কাঁচা মরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল প্রতি কেজি ১২০ টাকা।
শাকের বাজারেও স্বস্তি নেই। লাউশাকের আঁটি ৪০ টাকা, ডাঁটা ও পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লালশাক ও মুলাশাক ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে কলমিশাক, যার আঁটি ১০ টাকা। আলুর কেজি ২৫ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৩০ টাকা।
পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা দরে। তবে মিরপুর-১১ নম্বর বাজারের কয়েকটি দোকানে উন্নত মানের পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে।
মুরগির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশি মসুর ডালের কেজি ১৫০ টাকা। খুচরা বাজারে মাঝারি মানের বিআর-২৮ চালের কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বস্তায় চাল কিনলে কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
টিসিবির সর্বশেষ বাজারদর অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে মোড়কজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা এবং খোলা ময়দার দাম ২ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
