ভারতে ই-২০ পেট্রোল চালুর সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
তিনি জানিয়েছেন, ই-২০ পেট্রোলের বিরোধিতায় সংগৃহীত দুই লাখেরও বেশি নাগরিকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে ওই দিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শনিবার (১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল টাউনহল অ্যাগেইনস্ট ই-২০’ অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, অনলাইনে পরিচালিত স্বাক্ষর অভিযানে ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। সেই আবেদনপত্রের মুদ্রিত কপি তিনি নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে জমা দিতে চান।
কেজরিওয়ালের ভাষ্য, “দেশবাসীকে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানানোর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। আগামী ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় আমি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আবেদনপত্র জমা দিতে যাব। আমার সঙ্গে মাত্র ১০০ জন থাকবেন, যারা পুলিশের লাঠিচার্জ কিংবা কারাবাসকে ভয় পান না।”
তিনি আরও দাবি করেন, ই-২০ পেট্রোল সত্যিই নিরাপদ হলে সরকার এ বিষয়ে উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিতে পারত। তার মতে, উভয় পক্ষের তথ্য-প্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরলে জনগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।
তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা। তিনি বলেন, ই-২০ জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
ই-২০ পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এ জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে এবং জ্বালানির মাইলেজও কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলে ইথানল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সরকার এ নীতির বাস্তবায়নে আগ্রহী।
কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবেই দেশে ই-২০ নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট রাখা যায়।
অনুষ্ঠানে এএপি তিনটি দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো—পেট্রোল পাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ই-২০ জ্বালানির মধ্যে ভোক্তাদের পছন্দের সুযোগ নিশ্চিত করা, পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলের মূল্য হ্রাস করা।
