ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল। সেই ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার করা দুটি গোলই আজও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায়। একটি পরিচিত ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে, অন্যটি ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে। এবার সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ব্যবহৃত বলটি নিলামে উঠতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিলাম প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশনস আগামী ২১ থেকে ২৩ আগস্ট বলটির নিলামের আয়োজন করবে। নিলামকারীদের ধারণা, ঐতিহাসিক এই বলের দাম ১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকা। তবে নিলামে এর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
হেরিটেজ অকশনসের ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি ড্যান ইমলার মনে করেন, ফুটবল ইতিহাসে এত বেশি স্মৃতিবাহী বল খুব কমই আছে। কারণ, শুধু ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল নয়, ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার করা দ্বিতীয় গোলটিও একই বল দিয়ে হয়েছিল।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ম্যারাডোনার।
ম্যাচের ৫১ মিনিটে আসে প্রথম গোল। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের লড়াইয়ের সময় মাথা দিয়ে বল খেলার ভান করে বাঁ হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধতা পায়।
পরে এই গোলই বিশ্বজুড়ে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা মজা করে বলেছিলেন, গোলটি তাঁর মাথার কিছুটা এবং ঈশ্বরের হাতের কিছুটা অবদানে হয়েছে।
প্রথম গোলের মাত্র চার মিনিট পরই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলটি করেন ম্যারাডোনা। নিজেদের অর্ধে বল পাওয়ার পর প্রায় ৬০ গজ দূর থেকে তিনি দৌড় শুরু করেন।
পথে ইংল্যান্ডের চারজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে যান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। টেরি বুচারকে দুইবার কাটানোর পর গোলরক্ষক পিটার শিলটনকেও পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের সেই দুর্দান্ত দৌড় ও নিখুঁত ফিনিশিং পরবর্তীতে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পায়।
একই ম্যাচে ম্যারাডোনার করা দুটি গোলের একটি ফুটবল ইতিহাসে বিতর্কের প্রতীক, অন্যটি সৌন্দর্য ও দক্ষতার উদাহরণ। আর এখন সেই দুই গোলের সাক্ষী বলটিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের ওই ম্যাচে ম্যারাডোনা যে জার্সি পরেছিলেন, সেটিও পরবর্তী সময়ে নিলামে ওঠে। সেটি বিক্রি হয়েছিল ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারে, যা ফুটবলে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া জার্সির অন্যতম রেকর্ড তৈরি করে।
এবার সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের বল নিলামে উঠছে। বলটির সঙ্গে একই ম্যাচে ম্যারাডোনার দুটি ঐতিহাসিক গোলের স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় এর মূল্য ফুটবল সংগ্রাহকদের কাছে আরও বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হাতেই উঠেছিল। আর সেই আসরে ম্যারাডোনার নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তিতে পরিণত করে। চার দশক পরও তাঁর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর স্মারক ঘিরে আগ্রহ যে এতটা অটুট, আসন্ন নিলামই তার আরেকটি প্রমাণ।
