জ্বালানি খাতকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জিম্মি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট জ্বালানি খাতে এমন উদ্যোগ জনস্বার্থের পরিপন্থী। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা এ বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ অতীতের সরকারের জ্বালানি নীতিরই পুনরাবৃত্তি। তাঁদের ভাষ্য, আগের সরকারের সময়ে কুইক রেন্টাল প্রকল্প ও ‘দায়মুক্তি আইনের’ সুবিধা নিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ অপচয় ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন একই ধরনের নীতি পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
এনসিপির দাবি, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে জাতীয় পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে দলটির বিবৃতিতে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। দলটির নেতারা বলেন, মাত্র দুই দিনের সময় দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং চার দিনের মধ্যে নীতিমালার খসড়া তৈরির উদ্যোগ স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাঁদের আশঙ্কা, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কোনো বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে চলে গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এনসিপির নেতারা বলেন, জ্বালানি খাত নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এমন উদ্যোগ প্রতিহত করা হবে।
